Showing posts with label স্বদেশ ভাবনা. Show all posts
Showing posts with label স্বদেশ ভাবনা. Show all posts

Saturday, June 26, 2010

সম্মিলিত উদাসিনতা



বাংলাদেশের অর্থনীতি যে দুইটা পায়ার উপর দাঁড়িয়ে আছে তার মধ্যে একটা হচ্ছে প্রবাসিদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা আরেকটা হচ্ছে আমাদের পোশাক শিল্প, বিশ্ব অর্থনীতিক মন্দার ফলে অনেকেই আশংকা করেছিলেন যে এ দুইটা খাত হতেই দেশের আয় কমে যাবে কিন্তু দেখা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত অর্থনীতিক মন্দা এই দুই খাতকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনি বিশেষ করে মালয়েশিয়া সহ অনেক দেশ তাদের শ্রম বাজার আবার নতুন করে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার ফলে আপতত সংকট হতে কিছুটা রক্ষা পেলেও একই কথা বলা যাচ্ছে না

আমাদের রপ্তানী পোশাক শিল্পের ব্যাপারে পত্রিকা খুললেই খালি দেখি আশুলিয়াতে ১০০ জন, তেজগাঁওতে ২৫ জন, মিরপুরে ২০ জন পুলিশ শ্রমিক সংঘর্ষে আহত কোন কোন সময় নিহতের, আমাদের মিডিয়াগুলা ঘটনার মারামারি ফুটেজ ও বিবরণ সংগ্রহে যতটুকু উৎসাহ দেখায় ততটা তাদেরকে ঘটনাটি ঘটার কারণগুলা খটিয়ে দেখতে এবং তা নিয়ে সিরিজ রিপোরট করতে কখনই খুব একটা আগ্রহী দেখিনি।

সরকার ও মালিকদের ঘটনার পর জোরাতালি দিয়ে ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে যতোটা না ছুটাছুটি করতে দেখি ততোটা এর একটা টেকসই বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে কোন প্রকার কসরত করতে দেখি না এ সম্মিলিত উদাসীনতা যে রপ্তানী পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করে দিতে পারে তা মনে হয় কেউ এখন পর্যন্ত বুঝতে পারছে না। এক সময় ভারতের বোম্বেতে পোশাক শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছিল কিন্তু ১৯৮২ সালে হতে শ্রমিক মালিক পক্ষের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে তা ৯০ দিকে পুরাপুরিও বিলুপ্ত হয়ে যায় ১৫০,০০০ মতো লোক বেকার হয়ে পড়ে বাংলাদেশেও কি তার পুনারাবৃত্তি হতে চলেছে ?

Saturday, June 12, 2010

চায়ের পাতায় পাতায় চাপা আছে যাদের বঞ্চনার কথা






সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে কাজে যাওয়ার আগে চায়ের কাপে একটা চুমুক কিংবা বিকাল বেলায় পাড়ার বন্ধুদের সাথে আড্ডায় চা সিগারেটের অপরিহার্যতাকে অস্বীকার করতে পারবে এরকম বেরসিক বাঙালী এদেশে খুব কমই আছে। চা এর প্রসঙ্গ আসলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে সিলেটের ছবির মতো সুন্দর সবুজ চা বাগানগুলির কথা। সিনেমা এবং প্যাকেজ নাটকগুলার কারণে চা বাগানের ম্যানেজারদের সুন্দর বাংলো বাড়ির কথাও হয়তো মনে আসতে পারে কারো কারো কিন্তু এই চায়ের উৎপাদনে যে লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের অবদান আছে তা কখনও আমাদের মধ্যবিত্ত মননে জায়গা পায় না, আত্মকেন্দ্রিক শহুরে বাবুদের কাছে সব সময় আজানা থেকে যায় এসব চা শ্রমিকদের দুঃখের এবং বঞ্চনার কথা।

এখন হতে প্রায় চার হাজার বছর আগে চাইনিজরা তাদের দেশে চা চাষ আরম্ভ করলেও এই ভারতীয় উপমহাদেশে চা চাষের প্রচলন হয় ১৮৩৯ সালে ইংরেজদের মাধ্যমে। বর্তমানে সিলেট বিভাগ চা উৎপাদনের মূল কেন্দ্র হলেও আমাদের এই তল্লাটে প্রথম পরীক্ষামূলক চা চাষের শুরু হয় চট্টগ্রামে ১৮৪০ সালে তবে বাণিজ্যিক ভাবে চা উৎপাদন করা আরম্ভ হয় সিলেট জেলায় ১৮৫৪ সাল হতে।

এই সব চা বাগানে কাজ করার জন্য ইংরেজ উপনিবেশিকরা বিহার, মাদ্রাজ, উড়িষ্যা, অন্ধ্র প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত হতে লোকজনকে বলতে গেলে এক প্রকার জোর করে তুলে নিয়ে আসে সিলেট অঞ্চলে। এদের মধ্যে অর্ধেকই অমানুষীক পরিশ্রমে এবং রোগে ভুগে মারা যায় সিলেট আসার কিছু দিনের মধ্যে ।

যদিও এই চা শ্রমিকেরা ভারতের নানা প্রান্ত হতে এসেছিল তাদের ভাষা কৃষ্টি এক ছিল না কিন্তু পরবর্তীতে ‘কুলি’ উপাধি লাভ করে চা কোম্পানীর মালিকদের কাছ হতে। যা তাদের পরবর্তী চার প্রজন্ম পার হলেও এখনও এই কুলির তকমা ধারণ করে আছে। তাদের পূর্ব পুরুষদের কৃষ্টি কালচার হতে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে আজ তারা সকলের কাছে কুলি নামেই খালি নামেই পরিচিত।এই কুলি নামে পরিচিত চা শ্রমিকদের রক্ত ঘামের মেহনতের মধ্য দিয়ে চা শিল্প সিলেট অঞ্চলে গড়ে উঠছে, চা বাগানের ম্যানেজারদের আলিসান বাংলোগুলি নির্মাণেও এই কুলিদের অবদান সবচেয়ে বেশী যদিও এ বাংলোগুলিতে থাকার কথা স্বপ্নেও তারা ভাবে না! ইংরেজরা যখন তাদের এখানে নিয়ে এসেছিল তখন তাদের কাছে ওয়াদা করেছিল যে চার বছর পরে তাদেরকে নিজ নিজ বাসভূমে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিবে। কিন্তু সে ওয়াদাই স্রেফ কাগজেই রয়ে গেছে বাস্তবতার মুখ দেখেনি কখনও। ১৯৪৭ সালের ইংরেজদের ভারত ত্যাগ কিংবা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের হয় ফলে চা বাগানগুলির মালিকানারও বহুবার হাত বদল হয়েছে কিন্তু চা বাগানের শ্রমিকদের ভাগ্যের এতে খুব একটা হেরফের হয়নি কখনও।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১৬৩ টি চা বাগান আছে(সম্প্রতি পঞ্চগড় জেলায় ৭ টি নতুন চা বাগান গড়ার কাজ শুরু হয়েছে)। মজার ব্যাপার হচ্ছে ১৬৩ টি চা বাগানের মোট আয়তন হবে ১১৫,০০০ হেক্টরের মতো কিন্তু এই বিশাল জমির মাত্র ৪৫ % চা চাষের জন্য ব্যবহার করা হয়। এ বিশাল চা বাগানগুলির ব্যবস্থাপনায় এখনও ইংরেজ শাসকদের উপনিবেশীক সংস্কৃতির ছাপ বিদ্যম্যান Francis Rolt, British journalist, এ বলেন ...."The tea gardens are managed like an extreme hierarchy: the managers live like gods, distant, unapproachable, and incomprehensible. Some even begin to believe that they are gods, that they can do exactly what they like."সাহিত্যিক Dan Jones ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে চা বাগানে বেড়াতে এসে চা শ্রমিকদের অবস্থা দেখে মন্তব্য করেন.... "Managers have anything up to a dozen labourers as their personal, domestic servants. They are made to tie the managers shoe laces to remind them that they are under managerial control and that they are bound to do whatever they are asked." বলা যায় বাংলাদেশের চা বাগানগুলিতে এখনও দাস প্রথায় চালু আছে অন্যভাবে ।

The Tea Plantations Labour Ordinance, 1962 এবং The Tea Plantation Labour Rules, 1977 আইনে শ্রমিকদের নানা সুযোগ সুবিধার পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যায় আবাসন থেকে আরম্ভ করে উন্নত মানের রেশন সুবিধা কোনটাই এই হতভাগ্যরা লাভ করে না, আবাসন সংকট এই চা শ্রমিকদের অন্যতম সমস্যা ছোট পরিসরে পরিবার পরিজন নিয়ে গোয়ালের গরুর মতো থাকতে হয় তাদের । ২০০৬ সালে বাংলাদেশে নতুন শ্রম আইন সরকার প্রচলন করে এ আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সর্ব নিম্ন মজুরি ধরা হয় ১,৬০০ টাকা( ২২ আমেরিকান ডলার) চা শ্রমিকেরা নতুন শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের মজুরি বাড়ানোর জন্য আন্দোলন আরম্ভ করলে ২০০৮ সালের জুলাইয়ে শ্রম কল্যাণ মন্ত্রালয়ের আমলারা ফতোয়া দেন নতুন আইন চা বাগানের শ্রমিকেরদের ক্ষেত্রে খাটবে না !

এভাবেই চা বাগানের শ্রমিকেরা প্রতিনিয়ত অর্থনীতিক এবং সামাজিক ভাবে আমাদের শোষণ এবং অবহেলার স্বীকার হচ্ছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে কিন্তু এই দাসত্বের শিকল ছিঁড়ার কোন পথ তারা দেখতে পাচ্ছে না ।

টাকা দিয়ে নিজের জন্য কফিন কেনা

বেগুনবাড়ি এবং নিমতলীর ট্রেজেডির পর সবাইকে দেখি ভূমিকম্প হলে এই অপরিকল্পিত রাজধানিতে কি পরিমাণ প্রাণহানি এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হবে তা নিয়ে আলোচনা করতে , তবে বড় ধরনের বিপর্যয়ের জন্য আমাদের ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে না , ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পানির চাহিদার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ভূগর্ভের অভ্যন্তরে পানির লেভেলে প্রতিনিয়ত নিম্নমুখি হওয়ার প্রক্রিয়াই জন্ম দিতে পারে বেগুনবাড়ির মতো মারাত্মক সব প্রাণসংহারকারি দুর্ঘটনার।

বাংলাদেশ ভূতত্ত্ব পরিসংখ্যান সংস্থার পরিচালক এটিম আসাদুজামান এর মতে ভূগর্ভের পানির লেভেল কমে গেলে একটি ইমারতের নিচের মাটি প্রাকৃতিক নিয়মেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে খালি জায়গাটাকে ফিলআপ করে কিন্তু দীর্ঘ বিরতি দেওয়ার পর হঠাৎ করে ভারী বর্ষণ হলে ভূগর্ভের নিচে নেমে যাওয়া পানি বর্ষার পানিকে উপরের দিকে ঠেলতে থাকে ফলাফল ইমারতের ফাউন্ডেশনে কম্পনের মাধ্যমে ফাটল তৈরি হওয়া যেহেতু ঢাকা শহরের অধিকাংশ বাড়ির নির্মাণে ইট সিমেন্ট, চুন সুরকি সবকিছুতেই ভেজাল উপকরণ ব্যবহার করা হয় কাজেই দীর্ঘ শুষ্ক মাসের পর একটানা ভারী বর্ষণই যথেষ্ট কোন কোন এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানির জন্য।এবার আসুন ঢাকার কোন এলাকায় আপনি বসবাস করলে আপনার পিতৃ প্রদত্ত জান সবার আগে খুয়াবেন তা জানার চেষ্টা করি


ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ খুরশিদ আলমের মতে খুবই পুরনা দীপু টিলার মাটি বা পলিওসিন মাটি ৩৫ লক্ষ্ বছরে লেগেছে যা গঠিত হতে এ ধরনের মাটি বহুতল ভবন নির্মাণ করবার জন্য আদর্শ মতিঝিলে, সায়েদাবাদ, সেগুনবাগিচা, কাকরাইল, গুলসান, বনানি, ধানমন্ডি, লালমাতিয়া, বারিধারা, আগারগাও, খিলখেত অথবা মিরপুরের ১-৩, ৬, ১০-১২ সেকশনের মধ্যে যদি আপনি বাস করেন তাহলে বলা যায় আপনি কিছুটা হলেও নিরাপদ কারণ এসব এলাকার মাটি পলিসিন ধরনের মাটি কিন্তু আপনি যদি সাতারকুল, যাত্রাবাড়ি, মিরাদিয়া বাড্ডা এলাকায় বসবাস করেন তাহলে বাসা বদল করার কথা ভাবতে পারেন কারণ এই সব এলাকার মাটি হেলিসিন ধরনের যার কম্পন সহ্য করবার ক্ষমতা একদমই কম।

বর্তমানে আমার অনেক পরিচিত ব্যক্তিকেই পূর্বাচলের একটা প্লট পাবার জন্য বেশ ছুটাছুটি করতে দেখি অথচ এ বিশাল মডেল এলাকাটি গঠিত হচ্ছে হেলিসিন মাটির উপরে বালুর পর বালু ভরাট করে জমি উঁচু করে যা কোন ক্রমেই বহুতল ভবনের জন্য উপযুক্ত নয়, কাজেই অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে মানুষ কি নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য প্লটের নামে আসলে কফিন কিনছে কিনা তা একবার করে হলেও সকলের ভাবা উচিত।

কমিউনিটি বাংলা ব্লগ এবং ডিজিটাল ডিভাইড

বাংলা কমিউনিটি ব্লগ গুলি সম্পর্কে প্রথম ধারনা লাভ করি চিন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে, তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ক মেলায় সামু ব্লগের ষ্টলের মাধ্যমে। মেলায় হতে বাসায় এসে দুই একবার তাদের সাইটে ঢু মারলেও এরপর আর তেমন একটা ব্লগানোর উৎসাহ লাভ করিনি, পারিপার্শ্বিক নানা ধরনের ব্যস্ততার কারণে। ২০০৮ সালে কাজের চাপ কিছুটা কমার ফলে কি মনে করে হঠাৎ করে সামু ব্লগে ঢুকি এবং ব্লগার সবাকের জামাত শিবির বিষয়ক একটা ক্যাচাল পোষ্ট এবং তার নিচে করা অগণিত পাঠকের সরস সব মন্তব্য পড়ে বেশ উপভোগ করি এরপর ধীরে ধীরে দিনমজুর অমি রহমান পিয়াল ভাই সহ্ অনেক লেখকের লেখার সাথে পরিচিত হই ধীরে ধীরে ব্লগে লেখার পড়ার এক ধরনের আজব নেশায় ধরে।

পরিবারিক ভাবেই আমাদের ঘরের সবার বই পড়ার এবং লেখার অভ্যাস আছে আমার বাবা মা দুজনেই লেখক এমনকি আমাদের ঘরের মধ্যে যে পিচ্ছি ছোঁকরাটা মাকে ঘরের কাজে সাহায্য করে সেও দেখি অনেক লেখালিখি করে এবং বই পড়ে একমাত্র আমিই শুধুমাত্র লেখার চেয়ে পড়াতে বেশি বিশ্বাসি হয়তো আলসেমির অভ্যাসের কারণেই! বাংলা ব্লগগুলিকে কৃতজ্ঞতা জানাই কারণ তাদের কারণে এখন অল্প বিস্তর লেখালিখিতেও উৎসাহ এসেছে।

এক সময় মানুষ পত্রিকার ভিতরে নানা বিদ্বান্‌ বিশেষজ্ঞদের নানা ইস্যু নিয়ে প্রকাশিত লেখাগুলি পড়ত, লেখালিখির ব্যাপারটা কিছু মুষ্টিমেয় কিছু লোকের মধ্যেই সীমিত ছিল, যশহীন খ্যাতিহীন সাধারণ মানুষদের মত প্রকাশ পত্রিকা ম্যাগাজিনের সম্পাদকের মর্জির উপর নির্ভর করত, বাংলা ব্লগগুলিকে বলা যায় প্রচলিত মিডিয়ার উপরে এতোদিন কিছু এলিট লোকদের যে মনপলি ছিল তার দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের বিকল্প প্লাটফর্ম গড়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। নতুন এ মিডিয়া মাধ্যমের উথান দেখে অনেক মুল ধারার বড় মিডিয়া হাউজও ব্লগ সাইট তৈরি করছে প্রথম আলো যার উজ্জ্বল উদাহরণ।

প্রত্যেকটা ব্লগ সাইট এর ক্রমাগত ইউজারদের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষণ দেখে বলা যায় বাংলা ব্লগ তার আরম্ভের প্রথম ধাপ বা পর্যায় শেষ করেছে। কিন্তু কয়েকদিনের ব্লগের পোষ্টগুলি পড়ে মনে হল সময় এসেছে ব্লগের আরো বিকাশের স্বার্থে দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা অর্থাৎ বাংলা কমিউনিটি ব্লগের ধারনাকে সারাদেশ ব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলা । বাংলা ব্লগগুলির অধিকাংশ ব্লগারই মনে হয় ঢাকায় বসবাসকারি অথবা প্রবাসি একারণে অভ্র, বিদেশি সিনেমার রপ্তানী নিয়ে, বাকশাল, আমার দেশ, মাহমুদর রহমান ফরহাদ মজাহার এই সব টপিক নিয়ে যেভাবে পোষ্ট পড়ে এবং আলোচনা হয় সেভাবে খুলনা অঞ্চলের নাগরিক সমস্যা বা ইস্যু অথবা রংপুরের কৃষকদের তার পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়া নিয়ে কোন পোষ্ট পড়ে না, ঢাকায় কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি যদি ঢাকা শহরে না হয়ে রাজশাহীতে সংঘটিত হতো তাহলে আমার ধারনা হতাহতের সংখ্যা এরচেয়ে বেশি হলেও তা নিয়ে মাতামতির পরিমাণটা অনেক কম হত এটার জন্য আমি ঢাকার ব্লগার কিংবা প্রবাসি ব্লগারদের মোটেও দায়ী করব না কারণ রাজশাহীর নগরের সমস্যার কথা একমাত্র সেখানেই বসবাসকারী লোকই বুঝতে পারবে, কাজেই বাংলা ব্লগগুলিকে সত্যিকার অর্থেই তৃণমুল মানুষের কন্ঠস্বরে পরিণত করতে চাইলে মফস্বলে বসবাসকারি শিক্ষিত নাগরিকদের ব্লগ সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার কার্যক্রম অবশ্যই হাতে নেওয়া দরকার।

বিশ্বায়নের অবাধ তথ্য আদান প্রদানের এই যুগেও বাংলাদেশের তথ্য প্রবাহের ধারা একমুখি অর্থাৎ রাজধানী হতে তা মফস্বল কিন্তু মফস্বল হতে তা এখনও সেরকমভাবে শহর মুখি না এই যে ব্যবধান অসংগতি তা পূরণে বাংলা কমিউনিটি ব্লগগুলা অবশ্যই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

মোবাইল কম্পানিরগুলির সুবাদে ইন্টারনেট সুবিধা ধীরে ধীরে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতেও বিস্তার লাভ করছে, আমি খাগড়াছড়ি ,রাঙ্গামাটির এবং বান্দরবান জেলার অনেক পাহাড়ি উন্নয়ন কর্মির ঘরেও নেট সংযোগ দেখেছি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা রাজশাহি বিশ্ববিদালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যয়নরত অনেক উদ্যমী ছাত্র ছাত্রীকে দেখেছি যারা তাদের এলাকার সমস্যার কথা নিয়ে লিখালিখি করতে চায় কিন্তু ঢাকা কেন্দ্রিক মুল ধারায় মিডিয়াগুলির কাছে তাদের এ উদ্যমের খুব একটা দাম নেই, কারণ ঢাকা কেন্দ্রিক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নাগরিকদের ঘিরেই তারা তাদের মিডিয়া ব্যাবসা পরিচালনা করতে চায়, ফলে এসব মফস্বলে নীবিন সাংবাদিকেরা যে স্বপ্ন নিয়ে এ পেশায় আসে তা ক্রমেই ফিকে হয়ে যায় , প্রতিটি মফস্বল অঞ্চলে সাংবাদিক ছাড়াও সংখ্যায় কম হলেও নানা বিষয়ে লেখালিখি করতে ভালোবাসেন এরকম একটা সম্প্রদায় আছে তাদের মফস্বলে অবস্থানের কারণে তা মূলধারার মিডিয়াতে আসছে না, অন্যদিকে অনেকের হয়তো নেট সংযোগ নেবার সামর্থ্য থাকলেও নেটে যে এভাবে লেখালিখি করা সম্ভব সেই সম্পর্কে কোন আইডিয়াই নেই।

ভাবুন তো একবার এসব মফস্বলে বসবাসকারি নাগরিকদেরকেও যদি আমরা কমিউনিটি ব্লগ আন্দোলনে সামিল করতে পারতাম মফস্বলে হতে তাদের সুখ দুঃখের কথাগুলি যদি ডিজিটাল পাতায় চলে আসত অনায়সে তাহলে কতোবড় একটা বিপ্লব ঘটে যেতো দেশে!

দেশের বিরাজমান নানা ধরনের সমস্যা অনাচার অসংগতি নিয়ে ব্লগে অধিকাংশ সময় দীর্ঘনিশ্বাস ফেলা আর রাষ্ট্রযন্ত্রের নীতিনির্ধারকদের গালাগালি দিয়ে ব্লগারদের নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুর করা থাকে না, কিন্তু মফস্বল ও শহুরের নাগরিকদের মধ্যে যে ডিজিটাল ডিভাইড কাজ করেছে তাকে কিছুটা হলেও দূর করার কাজে ব্লগারেরা কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পারি কীভাবে করা যাবে তার উত্তর দিতে নিচে একটা প্রাথমিক রূপরেখা প্রণয়ন করলাম –

১। সুচনার দিকে প্রবাসি ও ঢাকার নাগরিকদের সমন্বয়ে একটা অর্থ তহবিল করা যার মাধ্যমে যেসব মফস্বল অঞ্চলে নেট সংযোগ এখন বিদ্যমান সেখানকার সাংবাদিকদের এবং লেখালিখি সাথে জড়িত ব্যক্তিদের কে কমিউনিটি ব্লগ সম্পর্কে ধারনা প্রদান করা কীভাবে পোষ্ট দিতে হবে সে সম্পর্কে কর্মশালার আয়োজন করা

২। যেসব মফস্বল অঞ্চলে নেট সংযোগ আছে এরকম অঞ্চলের ইস্কুল কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ছাত্র ছাত্রিদেরকেও বাংলা কমিউনিটি ব্লগ ধারনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া

৩। উপরের উদ্যোগগুলি সফল হলে সে অঞ্চলের ব্লগারদের নিয়ে ফোরাম গঠন করা

৪। স্কুল-কলেজে ব্লগকে সৃজনশীলতার মাধ্যম হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়। ইন্টারনেট মানেই যে পর্ন বা সময় নষ্ট করা নয়; বরং তথ্য-প্রযুক্তির সর্বাধুনিক উপায়, এই সচেতনতা সৃষ্টি দরকার।

উপরের কয়েকটা আমার মাথায় আসা তৎক্ষণাৎ আইডিয়া, ব্লগে আলোচনা সাপেক্ষে আরও অনেক আইডিয়া এর সাথে সংযোজন বিয়োজন করা যায়। আমার ব্লগকে আমার সব সময়ই অন্য ব্লগগুলি হতে স্বাতন্ত্র্য বলে মনে হয়েছে কারণ বাংলা ব্লগে সর্ব প্রথম নো মডারেশন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা, ব্লগের লেখাগুলি নিয়ে প্রথম একুশে বইমেলায় বই বের করা, যুদ্ধে অপরাধীদের বিচারে জনসচেতনা মতো উদ্যোগ নিয়েছে আমার ব্লগ। তাই এক্ষেত্রেও আমার ব্লগের সাথে জড়িতরা অগ্রণী কোন পদক্ষেপ নিবেন এটিই কামনা করি।

দেশের মেরুদণ্ড গড়ার কারিগরদের সবার আগে মেরামত করবার প্রয়োজনীয়তা

একসময় রমনাতে থাকার কারণে বিকাল বেলা হেঁটে বেইলি রোডে যাওয়া এবং সেখানকার ফাস্ট ফুডের এবং বইয়ের দোকানগুলাতে ঢু মারা আমার বলতে গেলে একপ্রকার রুটিনে পরিণত হয়ে গিয়েছিল, বেইলি রোডেই বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য সবচেয়ে সেরা বিদ্যাপীঠ বলে পরিচিত ভিকারুননিসা নূন স্কুলের অবস্থান যার পরিচয় নতুন করে দেওয়ার পরিচয় নেই, সকল সচেতন মেয়ের মা বাবাই সেখানে তাদের মেয়েকে পড়াতে চান।

ইস্কুল ভর্তি যুদ্ধের সময়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনের উৎকণ্ঠিত অভিভাবক এবং ছাত্রীদের সারি জীবনে অনেকবার দেখার সুযোগও হয়েছে, আমাদের পরিবারে কোন বোন না থাকলেও পরিচিত এক আত্মীয়ার কন্যার সেখানে ভর্তি না হতে পারার বেদানা বিদুর চেহারা দেখেই কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারি ভিকারুননিসা নূন স্কুলের একটি সিটের কতখানি দাম, বাংলাদেশের শিক্ষা সচেতন পরিবারগুলির এই আকাঙ্ক্ষাকে পুঁজি করে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের কিছু শিক্ষক ও কর্মচারি অনেক ধরেই বাণিজ্যের বেসাতি করে আসছিল কয়েক বছর ধরেই টাকা নিয়ে ছাত্রির ভর্তির সিণ্ডিকেট, বিদ্যালয়য়ে নানা কাজের টেন্ডারে দুর্নীতি নিয়ে নানা কথা কানে আসছিল পরিচিত অনেকের কাছ হতে।

মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসবার পর সংসদ রাশেদ খান মেনন এ চক্রটিকে নির্মূল করবার চেষ্টা করেন কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার বেগম এতে সহজে কেন এরকম একটি স্বর্ণের খনির উপর হতে নিজের দাবিনামা ছাড়বেন তিনি এ বিষয়টি নিয়ে কোর্টের দ্বারস্থ হন , নিজের পদ রক্ষার মরিয়া লড়াইয়ে নামেন প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদাকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়ে, এমনকি এর জন্য রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে কিছু মিডিয়ার সাথে আঁতাত করে নোংরা কাদা ছুঁড়াছুঁড়ি খেলা খেলতেও দ্বিধা করেননি কিন্তু গত বুধবার হাইকোর্ট রোকেয়া আক্তারের রিট আবেদন খারিজ করে দেয় জনাব মেনন কয়েকজন শিক্ষকের মাধ্যমে রোকেয়া আক্তারের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বার্তা পাঠান। এতবড় পরাজয়ের পরও রোকেয়া আক্তারে বলে বেড়াচ্ছেন তিনি রায়ের অনুলিপি হাতে পাননি। এ ছাড়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবার চিন্তা করছেন তাই আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হলে তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারেন না।

একটি বিদ্যাপিঠের শিক্ষকদের পদ আঁকড়ে পড়ে থাকার জন্য এরকম বেহায়াপনা দেখলে আসলেই দেশের ভবিষ্যত নিয়ে কিছুটা হলেও সংকিত হতে হয়, এধনরের পদ নিয়ে কামড়াকামড়ি করবার খেলা দেশের সব নামকরা ইস্কুল কলেজেই দেখা যায়, অধ্যক্ষ পদটি বাগানোর জন্য কিছু শিক্ষকদের ক্ষমতাসীনদের জুতার কীভাবে চাটতে পারে ছাত্র জীবনে তা নিজের চোখে কিছুটা হলেও দেখেছি , রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তো সামান্য একটি পদের জন্য বিএনপির একই গ্রুপের শিক্ষক আরেক শিক্ষককে শিবিরের খুনি ক্যাডার দিয়ে খুন করে লাশ ম্যানহলে নিক্ষেপের মতো ঘটনাও আমরা পত্রিকা পড়ে জেনেছি।

এবারের ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলিয়ে মোট ১৭ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দের হয়েছে। আমার মনে হয় সময় এসেছে এ বাজেটের কিছুটা হলেও শিক্ষকদের নৈতিকতা শিখানোর কাজে ব্যয় করবার।